ধোনির ‘ইডেনে’ তাহিরের ঘূর্ণিতে লিনদের হার

Spread the love

পড়তে সময় – পাঁচ মিনিট

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

কলকাতা, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

কলকাতা –১৬১/৮ (লিন ৮২, তাহির ৪/২৭)

চেন্নাই – ১৬২ /৫ ( রায়না ৫৮*, জাদেজা ৩১*, নারিন ২/১৮ )

চেন্নাই ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচের সেরা – ইমরান তাহির

বিশ্ব ফুটবলে হলুদ জার্সিতে ব্রাজিল যেমন, আইপিএল-এর ব্রাজিল বলাই যায় এমএস ধোনির চেন্নাইকে!

ধর্মতলা থেকে ইডেন পর্যন্ত হাঁটলে হলুদ ছাড়া অন্য রঙ চোখেই পড়বে না। কেকেআর-এর বেগুনি জার্সি, শতাংশের হিসাবে বোধহয় ৩০-৭০ও নয়!

মাঠে মনে হতে বাধ্য রাহুল দ্রাবিড়ের সেই বিখ্যাত মন্তব্য, ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একদিনের ম্যাচ দশ উইকেটে হারের পর – দেশের মধ্যে না দেশের বাইরে খেলছিলেন, বোঝেননি! সৌরভ গাঙ্গুলিকে বাদ দিয়েছিলেন (গ্রেগ) চ্যাপেল-দ্রাবিড় জুটি। ইডেন মনের মতো প্রতিবাদ জানিয়েছিল ‘চ্যাপেল হটাও দেশ বাঁচাও’, ‘রাহুল দ্রাবিড় হায় হায়’ ধ্বনিতে।

তেমন ধ্বনির দরকার পড়েনি ধোনির উপস্থিতিতে। ভারতকে কুড়ি ও পঞ্চাশ ওভারের দুটি বিশ্বকাপ জেতানো, এমনকি, আইপিএল থেকে দু’বছর চেন্নাই সুপার কিংস নির্বাসিত থাকার পরও, এই মুহূর্তে ২০১৯ আইপিএল-এ শীর্ষস্থানে থাকা সিএসকে-র জন্য উল্লাসে গলা ফাটাল ইডেন, চৈত্র সংক্রান্তির চাঁদিফাটা গরমে। কেকেআর-এর উইকেট পড়লে, সিএসকে-র নেওয়া ডিআরএস-এ আউটের সম্ভাবনা না-থাকার স্নিকো-প্রমাণে। কার্তিকের মতোই শাহরুখ খানও ভাবতে বাধ্য, ‘আমরা ঘরের মাঠেই খেলছিলাম তো!’

কেদার যাদব যখন পীযুষ চাওলার বলে আউট হলেন ১১.১ ওভারে, যে-চিৎকার উঠল ধোনি ব্যাট করতে নামার সময়, একটা সময় টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হলে শচীন তেন্ডুলকার মাঠে আসবেন ভেবে তেমনই হত! অথচ, তখন অল্প হলেও চাপে ছিল সিএসকে। ৮১ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল, ১৬২-র লক্ষ্যে পৌঁছতে চেয়ে। পরের ওভারে কুলদীপ যাদবের বল লং অন বাউন্ডারির বাইরে, শাহরুখের বক্সের সামনে ফেললেন ধোনি, অবহেলায়। অনুচ্চারিত থাকল যেন, ‘তোদের বিরুদ্ধে আর কী-ই বা খেলব!’

ভরা ইডেনের মন বোঝা দায় আবার ১৫ দশমিক চার ওভারে যখন সুনীল নারিনের বলে দুবার জয়ধ্বনি উঠল। প্রথমে নারিনের বল পেয়ে গিয়েছিল ধোনির পা, উইকেটের সামনে। ডিআরএস নিয়েছিলেন ধোনি, জেনেই যে, সম্ভাবনা নেই-ই প্রায়। তাই, ডিআরএস-ও যখন জানাল ধোনি আউট, দ্বিতীয়বার হাততালি-চিৎকার-উল্লাস এবং কয়েকজন হলুদ জার্সিধারীর সঙ্গে সঙ্গেই মাঠত্যাগ!

আইপিএল আসলে চরিত্রেই এমন। প্রতি বলে ঘটনা চাই, দুর্ঘটনা হলেও ক্ষতি ‘নাই’! সমর্থন বদলায় প্রতি মুহূর্তে। তাতে ‘স্পোর্টিং’ ভাবমূর্তি তৈরি হয় গ্যালারির। আন্দাজ-সম্ভব নয় সে খেলার ধরন।

তাই, আইপিএল যখন ক্রমশ ডব্লুআইপিএল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রিমিয়ার লিগ) হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখাচ্ছিল আন্দ্রে রাসেলদের দৌরাত্ম্যে, দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ক্রিকেটারের সৌজন্যে কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এসএপিএল। ধোনির পরামর্শ মেনে তাহিরের চার ওভারে ২৭ রানে চার উইকেট। নিজের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ওভারে দুটি করে উইকেট নিলেন, অবশ্যই ওই চারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট রাসেলের। আর চল্লিশ বছরের তাহিরের যোগ্য সঙ্গতে আর-এক দক্ষিণ আফ্রিকান ফাফ দুপ্লেসিস, চারটি ক্যাচ নিলেন যিনি, দুরন্ত ফিল্ডিংয়ে। সেই ম্যাচ আবারও ডব্লুআইপিএল করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সুনীল নারিন, চার ওভারে একটি উইকেট-মেডেনসহ মাত্র ১৯ রানে দুটি উইকেট নিয়ে।

কিন্তু, আইপিএল-এর সবচেয়ে ধারাবাহিক হিসাবে নিজেকে তুলে-ধরা সুরেশ রায়না (অপরাজিত ৫৮, ৪২ বলে, ৭x৪,১x৬) এবং বিশ্বকাপের বিমানে জায়গা পেতে উৎসাহী রবীন্দ্র জাদেজার অপরাজিত ৩১ (১৭ বল, ৫x৪) রানের কারণে তা সম্ভব হয়নি। অসমাপ্ত ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ রানের মধ্যে ৩১ জাদেজারই! পাঁচ উইকেটে জয়, দু’বল বাকি থাকতে।

ক্রিস লিনের ৫১ বলে ৮২ (৭x৪,৬x৬) দাম পেল না যে-কারণে। বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে আর ২৪ ঘন্টাও নেই, সেই চাপ নিতে পারলেন না কার্তিক। বিশেষ করে, দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসাবে নিজের যোগ্যতা যখন প্রমাণ করে যাচ্ছেন ঋষভ পন্থ। আর, দ্রে রাস-কে একদিন না একদিন তো কম রানে ফিরতেই হত। কেকেআর-এর দুর্ভাগ্য, সেই দিনটা এল টানা হারের হ্যাটট্রিকের দিনই। অষ্টম ম্যাচে সপ্তম জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে পা রেখেই ফেলল প্রায়, ধোনির চেন্নাই।

ইডেনে পরের ম্যাচে কলকাতার সামনে বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সপ্তম ম্যাচে প্রথম জয়ের পর ইডেনেও বিরাট-এবির জুটি ক্লিক করে জিতলে, কেকেআর-এর কি টানা চার হার, আগামী ১৯ এপ্রিল?

ম্যাচের সেরা ইমরান তাহির। ছবি – আইপিএল

Kashinath Bhattacharjee
Covered two FIFA World Cups in Brazil (2014) and Russia (2018), UEFA Champions League Final in Moscow (2008). In Sports Journalism since 1993. twitter: @bkashi
https://www.facebook.com/kashinath.bhattacharjee

Leave a Reply