‌প্লাজা অক্সিজেন দিলেন ইস্টবেঙ্গলকে

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক
কলকাতা, ১ মার্চ ২০১৯

উইলিস প্লাজাকে বাতিল করে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই প্লাজাই এখন অক্সিজেন দিচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলকে!‌
আই লিগ খেতাবের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিল চার্চিল ব্রাদার্স। আর, চেন্নাই সিটি এফসি শুক্রবার জিতলেই হাতে তুলে নিত ট্রফি। নিজেদের মাঠে প্লাজার জোড়া এবং ক্রাইস্ট রেমির গোলে তিলক ময়দানে চেন্নাই সিটি এফসি–‌র বাড়া ভাতে ছাই ফেলল চার্চিল। আর, আগামী ৩ মার্চ মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি–‌কে হারাতে পারলে ইস্টবেঙ্গলের সামনে সুযোগ প্রবলভাবে ফিরে আসার, খেতাবি লড়াইয়ে।

পাঁচ গোলের ম্যাচ
গোয়ায় খেতাব জেতার পথে এগিয়ে গিয়েছিল চেন্নাই, প্রথমে গোল পেয়ে। বিপজ্জনক অঞ্চলে ফ্রি কিক পেয়েছিল চেন্নাই, নেস্তোর গোরদিও–‌কে ফাউল করেছিলেন ওয়েন ভাজ। সান্দ্রো রোদরিগেজ শট নিয়েছিলেন যা সেই প্লাদার মাথা ছুঁয়েই গোলে গিয়েছিল। ম্যাচ রেফারি এবং এআইএফএফ–‌এর সরকারি ওয়েবসাইটেও গোল দেওয়া হয়েছে সান্দ্রোর নামেই। কিন্তু, ৩৮ মিনিটে সমতা ফেরান সেই প্লাজাই, এবারের আই লিগে তাঁর ১৯তম গোলটি করে, নিকোলাস ফেরনানদেসের ক্রসে পা ছুঁইয়ে।
বিরতির পর চার্চিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন রেমি। সেই গোল শোধ হয় পেনাল্টিতে। বক্সের মধ্যে ভাজের হাতে বল লেগেছিল বলে রেফারি সন্তোষ কুমার পেনাল্টি দেন। পেদ্রো মানজি নিজের ২০তম গোল তুলে নেন সেই পেনাল্টি থেকে সমতা ফিরিয়ে। কিন্তু, আবারও প্লাজা এগিয়ে দেন। এবার অবশ্য ভুল চেন্নাইয়ের স্পেনীয় গোলরক্ষক মাউরো বোয়েরচিও–‌র। নিজের দলের ডিফেন্ডারের উদ্দেশে মাউরোর বাড়ানো পাস ধরে ফেলেছিলেন চার্চিলের খালিদ আউচো। তাঁর পাস থেকে প্লাজার দ্বিতীয় গোল, আগুয়ান গোলরক্ষকের ডানদিক দিয়ে।
দলের তৃতীয় গোলের ঠিক পরেই চার্চিল সুযোগ পেয়েছিল ৪–‌২ করার। একেবারে ফাঁকায় প্লাজা সাজিয়ে দিয়েছিলেন চেস্টারপল লিংদো–‌কে। সামান্য ভুল, বল দ্বিতীয় ছোঁয়ায় বেরিয়ে গিয়েছিল, বিপদ বুঝে ঠিক সময়ে এগিয়ে এসেছিলেন মাউরো। এমন সুযোগ নষ্ট করে যে–‌দল, স্বাভাবিকভাবেই থাকে না খেতাবি লড়াইয়ে।
মাঠ তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেয়নি, অভিযোগ জানিয়েছেন চেন্নাই সিটি এফসি–‌র কোচ আকবর নওয়াস। আবার চার্চিলের কোচ পেত্রে গিগিউ মনে করছেন, চেন্নাই–‌ই খেতাব জিতবে, তাঁরা শুধু পিছিয়ে দিলেন ক্ষণ!‌ চেন্নাই সিটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো খেলেছে, সন্দেহ নেই যেমন, ১৯ ম্যাচে ২৭ গোল হজমও করেছে।‌ চ্যাম্পিয়ন দলের রক্ষণ বোধহয় এতটাও ছিদ্রযুক্ত হয় না!‌ ইন্ডিয়ান অ্যারোজ (‌২৮)‌ এবং গোকুলম কেরালা (‌৩০)‌ বেশি গোল খেয়েছে চেন্নাইয়ের চেয়ে, এই তথ্যেই হয়ত পরিষ্কার, কেন এখনও চ্যাম্পিয়ন নয় চেন্নাই সিটি এফসি।

কী হলে কী!‌
পয়েন্ট তালিকায় ১৯ ম্যাচে চেন্নাইয়ের পয়েন্ট ৪০। ইস্টবেঙ্গলের ৩৬ পয়েন্ট, ১৮ ম্যাচে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভাকে যদি ইস্টবেঙ্গল হারাতে পারে, ১৯ ম্যাচে পয়েন্ট হবে ৩৯। পারা বা না–‌পারা ইস্টবেঙ্গলের হাতে। না–‌পারলে, মানে মিনার্ভার বিরুদ্ধে ড্র করলেই চেন্নাই সিটি এফসি বাড়িতে বসে চ্যাম্পিয়ন। তখন শেষ ম্যাচে চেন্নাই হারলে এবং ইস্টবেঙ্গল জিতলে দুটি দলেরই পয়েন্ট হবে ৪০। কিন্তু, চেন্নাই ঘরে–‌বাইরে দুবারই হারিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। সুতরাং, চেন্নাই–‌ই চ্যাম্পিয়ন।
ইস্টবেঙ্গল মিনার্ভাকে হারিয়ে ৩৯ পয়েন্টে পৌঁছলে, শেষ ম্যাচ খেলবে গোকুলমের বিরুদ্ধে, অ্যাওয়ে এবং চেন্নাইয়ের শেষ প্রতিপক্ষ সেই মিনার্ভা। সুবিধে চেন্নাইয়েরই। শুধু এক পয়েন্টে এগিয়ে–‌থাকার কারণে নয়, খেলবেও ঘরের মাঠে। তবু, শেষ ম্যাচ এবং শেষ দিন পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকবে খেতাব নিয়ে। দুটি দলকেই ঝাঁপাতে হবে জয়ের জন্য। ভরপুর উত্তেজনা এবং ভয়ঙ্কর চাপ তখন দুদলের ওপরেই।
কিন্তু, তার আগে রবিবার। ইস্টবেঙ্গল–‌মিনার্ভা ম্যাচ জানিয়ে দেবে, শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা জরুরি কিনা‍‌!

Leave a Reply