‌প্লাজার প্রতিশোধ! চেন্নাইকে ছোঁয়ার সুযোগ হারাল ইস্টবেঙ্গল

Spread the love

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

কলকাতা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ইস্টবেঙ্গল – ১     চার্চিল ব্রাদার্স – ১

(কাশিম ৭৮)        (প্লাজা ৬৮)

সোনার সুযোগ হাতছাড়া! চেন্নাই সিটি এফসি-কে ছুঁয়ে ফেলতে পারত ইস্টবেঙ্গল, জিতলে। পাঁচ গোল দেওয়ার পরের ম্যাচে বিপক্ষ বক্সে জায়গা না পেয়ে এবং পড়ে-পাওয়া গোটা তিনেক সুযোগ নষ্ট করে শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরলেন লাল হলুদ জার্সিধারীরা। থেকে গেলেন চেন্নাইয়ের সমসংখ্যক ১৬ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে।

আই লিগে ইস্টবেঙ্গলের মরসুম নির্ধারিত হয়ে যায় শেষ পাঁচ ম্যাচে। এবারও টানা চার ম্যাচে যথাক্রমে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ, মোহনবাগান, নেরোকা এবং লাজংকে হারানোর পর ছন্দ হারানো চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। উইলিস প্লাজা বদলা নিয়ে চলে গেলেন কলকাতা থেকে, সময়ে গোল করে নিজের বর্তমান দলকে প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে আবারও এগিয়ে দিয়ে। জয় অবশ্য অধরা থেকে গেলে তাঁরও, প্রথম পর্বের মতোই। কলকাতায় এসে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও গোল, বলাই যায় প্লাজার প্রতিশোধ!

কোথায় আটকাল ইস্টবেঙ্গল

চার্চিল ঠিক করেই নেমেছিল, মাথা গরম করিয়ে ছন্দ নষ্ট করে দেবে ইস্টবেঙ্গলের। শুরু থেকেই ফাউল, সময় নষ্টের অছিলা। ইস্টবেঙ্গল সেই ফাঁদে পা-ও দিল। হারিয়ে ফেলল তাগিদ। লাজংয়ের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের পাসিং ফুটবল দর্শকের চোখকে তৃপ্তি দিয়েছিল। প্রধান কারণ ছিল, লাজং কখনও খেলা নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করেনি। অনূর্ধ্ব ২২ ফুটবলাররা নিজেরাও খেলতে চেয়েছিলেন, তাতে জায়গা পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, নিজেদের খেলা তুলে ধরার।

চার্চিল ব্রাদার্স তেমন করবে না, জানতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। চার ডিফেন্ডারের সামনে আরও চারজন মিডফিল্ডারের সমান্তরাল লাইন। কৌণিক বলগুলো পৌঁছল না কাঙ্ক্ষিত পায়ে। এমনকি, পেছন থেকে যে লং বলগুলো লাজং ম্যাচে চারটি গোলের ক্ষেত্রে রাস্তা খুলে দিয়েছিল, পাওয়া গেল না তেমন বলও। দ্বিতীয়ার্ধে গোটা কুড়ি মিনিট এবং গোলশোধের পর শেষদিকে খানিকটা, এ ছাড়া সেই তাগিদই বা দেখা গেল কোথায়?

পাসিং ফুটবলে এই সমস্যাটা বরাবরই। ইস্টবেঙ্গল কোচ তো বলেও গেলেন, ‘ওরা তো খেলার চেষ্টাই করেনি! ওদের লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করা, খেলার গতি ব্যহত করা ইত্যাদি।’ সমস্যা, এমন যে হবে, প্রত্যাশিতই তো! অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে এসে বড় দল কি আর অন্যান্য দলের মতো জায়গা এবং সুযোগ দেবে, মনের মতো করে খেলার? সেটা ধরে নিয়ে কৌশল তৈরি করাটাই তো কেচের কাজ, তাই না?

যেভাবে গোল

প্রথম গোল, ৬৮ মিনিটে — নিকোলাস ফেরনান্দেজের বাঁপায়ের থ্রু ইস্টবেঙ্গল বক্সে। বোরখা গোমেজ দেরি করলেন পৌঁছতে। পেছন থেকে দ্রুত এসে ঠিক সময় ঠিক জায়গায় বলে পা লাগিয়ে চার্চিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন উইলিস প্লাজা। এবারের লিগে তাঁর ১৮ গোল। ইস্টবেঙ্গলে ছিলেন গতবার, প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচেই গোল পেলেন ত্রিনিদাদের প্লাজা। তাঁর ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল গোল খেয়েও জিতেছিল দুটি গোল করে। লালহলুদের ঘরের মাঠ থেকে নিয়ে গেলেন এক পয়েন্ট। আই লিগ জেতার সম্ভাবনা কমে গেল ইস্টবেঙ্গলের।

দ্বিতীয় গোল, ৭৮ মিনিটে — চুলোভাকে ফাউল করা হয়েছিল বড় বক্সের বাইরে। ফ্রি কিক, মাঠের ডানদিক থেকে। বাঁপায়ের ফ্রি কিক লালরিনদিকা রালতের। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল হয়ত কাশিম আইদারের মাথা ছুঁয়ে জালে গিয়েছে বল। সাংবাদিক সম্মেলনে তো দিকা নিজেও বলতে পারলেন না। কিন্তু রেফারি এবং ম্যাচ কমিশনার প্রথমে গোল দেন ইস্টবেঙ্গল অধিনায়কের নামে। পরে, আবার পাল্টে কাশিম আইদারের নামেই দেওয়া হয় গোল। সমতা ফেরানোর গোলের অ্যাসিস্টের কারণে ম্যাচের সেরা লালরিনদিকা রালতে। চার্চিলের কোচ পেত্রে গিগিউ দুষলেন রেফারি রক্তিম সাহার সিদ্ধান্তকে। গোলের আগে ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক ফাউল করেছিলেন, দাবি তাঁর।

ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ নষ্ট

৩১ মিনিটে প্রথম। এনরিকে এসকেদা বল পেয়েছিলেন বক্সের ঠিক বাইরে, জবির ব্যাক পাসে। বাঁপায়ে দুরন্ত শট নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনকাঠিতে থাকেনি। পরের সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের ৪৩ মিনিটে। এবার এনরিকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন তোনি দোবালেকে। ডানপায়ের ক্রস, প্রায় বাইলাইন থেকে, দোবালের তুলনায় দুর্বল ডানপায়ে। শট নিয়েছিলেন দোবালে, কিন্তু রাখতে পারেননি গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে এনরিকে আবার সুযোগ পেয়েছিলেন ৬০ মিনিটে। শটও নিয়েছিলেন ডানপায়ে, যথারীতি লক্ষ্যে থাকেনি বল।

লিগ তালিকায়

১৬ ম্যাচে ৩২, দ্বিতীয় স্থানে এখন। রিয়েল কাশ্মীরের সঙ্গে পয়েন্ট সমান, প্রথম পর্বে যেহেতু এই যুবভারতীতেই ১-১ ড্র রেখে ফিরেছিল কাশ্মীর, গোল-পার্থক্যে ইস্টবেঙ্গল (১৪) এগিয়ে গেল কাশ্মীরের (১১) চেয়ে।  গোলও বেশি করেছে ইস্টবেঙ্গল (৩১), কাশ্মীরের সেখানে ১৯।

সোমবার লাজংকে হারালেই অবশ্য চেন্নাই পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে। মিনার্ভা আবার জানিয়ে দিয়েছে, খেলতে যাচ্ছে না কাশ্মীরে, অর্থাৎ, কাশ্মীরও এগিয়ে যাবে তিন পয়েন্টে, সোমবারই। ১৮ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে চার্চিলের লিগজয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ আলেখান্দ্রো মেনেনন্দেস তবু মনে করছেন, তাঁরা যেমন পয়েন্ট হারালেন, চেন্নাইও হারাবে। খেতাবের লড়াই তাই চলবে শেষ দিন পর্যন্ত।

আলেখান্দ্রোর এই আশায় আবেগ বেশি, যুক্তি কম। শেষ তিনটি ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে হবে বাইরের মাঠে, পরপর, মনে রেখেছেন কি?

ইস্টবেঙ্গল – রক্ষিত দাগার; লালরাম চুলোভা, জনি আকোস্তা, বোরখা গোমেস, মনোজ মহম্মদ  (সামাদ আলি মল্লিক ৭৫); লালদানমাউইয়া রালতে (ব্র্যান্ডন ভ্যানলালরেমদিকা ৫৩), কাসিম আইদারা‌, লালরিনদিকা লালতে, তোনি দোবালে (খাইমে সানতোস কোলাদো ৫২); এনরিকে এসকেদা‌, জবি জাস্টিন

চার্চিল ব্রাদার্স – বিগনেশ্বরন ভাস্করন;  ওয়েন ভাজ, রোউইলনসন রদরিগেজ (সুরজ ৮৬), নেনাদ নোভাকোভিচ, জোবেল মার্টিনস; খালিদ আউচো, চেস্টারপল লিংদো, নিকোলাস ফেরনানদেজ, ক্রাইস্ট রেমি (উত্তম রাই ৮২),  উইলিস প্লাজা‌‌‌, অ্যান্টনি উলফ (কেভিন লোবো ৮৯)

রেফারি – রক্তিম সাহা

Kashinath Bhattacharjee
Covered two FIFA World Cups in Brazil (2014) and Russia (2018), UEFA Champions League Final in Moscow (2008). In Sports Journalism since 1993. twitter: @bkashi
https://www.facebook.com/kashinath.bhattacharjee

Leave a Reply