ডেভিস কাপের নিয়ম বদলে ঘোর আপত্তি ইতালির অধিনায়কের

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি ২০১৯

জেরার্দ পিকে-র সংস্থাকে পরোক্ষে আর আন্তর্জাতিক টেনিস সংস্থাকে প্রত্যক্ষভাবে একহাত নিলেন ইতালির অক্রীড়ক অধিনায়ক কোরাদো বারাৎজুত্তি!

নিয়ম বদলে ১১৯-বছরের ডেভিস কাপ এখন তিন সেটের। তা ছাড়াও, প্রতি বছরের শেষে কোনও বড় শহরে ডেভিস কাপের ফাইনাল পর্ব। বলা হচ্ছে, ডেভিস কাপের চূড়ান্ত পর্ব হবে টেনিসের বিশ্বকাপ। এক সপ্তাহ চলবে এই প্রতিযোগিতা। ২০১৯ সালে যা হবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে। আর, প্রচুর পুরস্কার মূল্য এবার ডেভিস কাপেও!

বারাৎজুত্তির এর একটাও পছন্দ নয়। কলকাতায় এসে তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনেই ঘোরতর আপত্তির কথা জানিয়ে দিলেন জোরগলায়।

‘ডেভিস কাপের ফরম্যাট পাল্টানো মানে যেন গ্র্যান্ড স্লামকে বদলে দেওয়া! হয় নাকি? ইচ্ছে হলেই গ্র্যান্ড স্লামকে তিন সেটের করে দিতে পারেন? কিংবা, এক সপ্তাহের টুর্নামেন্ট? সত্যিই জানি না, কী করে কেউ কেউ এই নতুন ফরম্যাটকে আগের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে পারে। কিন্তু কিছু করারও নেই, সবই পাল্টাচ্ছে, দ্রুততর হচ্ছে,’ বললেন বারাৎজুত্তি।

১৯৭৬ সালে ইতালি প্রথম এবং একবারই ডেভিস কাপ জিতেছিল যখন, ইতালির বর্তমান অধিনায়ক তখন ছিলেন সেই দলে। ‘আমরা একেবারেই অন্যযুগের প্রতিনিধি। তাই মনে হয় যে, আগের ফরম্যাটটাই ঠিক ছিল, পাঁচ সেটের খেলাটাই। আর, এবার তো ফাইনাল পর্বটাই একটা জায়গায় খেলা হবে, আগের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলা উঠে গিয়ে!’

আন্তর্জাতিক টেনিস সংস্থাকে (আইটিএফ) এই নতুন ফরম্যাটের প্রস্তাব দিয়েছিল কসমস সংস্থা যার মালিক এবং প্রতিষ্ঠাতা বার্সেলোনা ও স্পেনের পিকে। আগামী ২৫ বছরে কসমস ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, প্রতিশ্রুত। ফলে বাড়ছে ডেভিস কাপের পুরস্কার মূল্যও। যেমন, এবার ফাইনাল পর্বে মাদ্রিদে পৌঁছতে পারলেই ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার পাবেন খেলোয়াড়রা, সংস্থা পাবে তিন লক্ষ মার্কিন ডলার। বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড স্লামের মতোই অর্থ এবার থেকে ডেভিস কাপেও।

বারাৎজুত্তির পছন্দ হয়নি তা-ও। তাঁর কথায়, ‘পুরস্কার মূল্য বড় ব্যাপার, সন্দেহ নেই। কিন্তু, সেরা প্লেয়াররা কখনও ওই পুরস্কার মূল্যের দিকে তাকিয়ে টেনিস খেলে না। রজার ফেডেরার উইম্বলডনে খেলে বড় অঙ্কের পুরস্কারের জন্য, বিশ্বাসযোগ্য? কিংবা রোলাঁ গারোয় রাফায়েল নাদাল বা ফ্লাশিং মেডোয় নোভাক জকোভিচ? সেরারা কখনও করে না এমন।’

বিএনপি পারিবাস এবং আইটিএফ-এর সঙ্গে ডেভিস কাপের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে যোগ দেওয়ার সময় কসমস-কর্তা পিকে জানিয়েছিলেন, ‘আইটিএফ-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে কসমসের খুশির সীমা নেই। একসঙ্গে আমরা ডেভিস কাপকে এমন একটা উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে চাইছি যেখানে প্রত্যেক টেনিসপ্রেমীর মনে হবে, টেনিসের এই বিশ্বকাপটা একবার দেখতেই হবে। সেরা দেশের সেরা প্লেয়াররা খেলবে যেখানে। আর, ২৫ বছরে যে তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কসমস তা গোটা বিশ্বজুড়ে কাজে লাগানো হবে টেনিসের উন্নতিতে।’

ভারতের অধিনায়ক মহেশ ভূপতি অবশ্য স্বাগত জানিয়েছিলেন এই পরিবর্তনকে। কলকাতায় এসে প্রথম দিনই বলেছিলেন মহেশ, ‘বিশ্বজুড়েই টেলিভিশনের জন্য এখন সব খেলারই সময়সীমা কমানো হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও সুপার টাইব্রেকার হয়েছে পুরুষদের সিঙ্গলসে। উইম্বলডনও পাল্টাচ্ছে। তাই সবাই-ই শিখে নেবে কী করে সময়ের সঙ্গে পাল্টে যেতে হয়। খেলার জগতে এখন এটাই দস্তুর।’

আসলে, বারাৎজুত্তির বয়স যদি ৬৫ হয়, মহেশের যে মাত্রই ৪৪!

Leave a Reply