ডার্বি: ব্যক্তিগত প্রতিশোধ মাথায় নেই খালিদের

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

রবিবার বড় ম্যাচে নতুন চাপ খালিদ জামিলের। গত বছর ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসাবে তিনবার ‘ডার্বি’-তে একবারও জেতেননি। হেরেছিলেন দুবার। চতুর্থ ডার্বিতে তিনি শিবির বদলেছেন। ফলও কি বদলাবে?

প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শনিবার কলকাতা ময়দানে অনুশীলন বা সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন মুশকিল। তাই, প্রথামতো ম্যাচের আগের দিন নয়, দুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হল সাংবাদিক সম্মেলন, মোহনবাগান মাঠে। এবার যেহেতু মোহনবাগানের হোম ম্যাচ। ২০১৮-১৯ আই লিগের প্রথম বড় ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে।

প্রত্যাশিত ফল দিতে না পেরে মোহনবাগানের কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী নিজেই সরে যাওয়ার পর প্রায় একদিনের নোটিশে কাজে লেগে গিয়েছিলেন খালিদ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহনবাগান দুটি ম্যাচে জিতে আই লিগ তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে, ১৩ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে। হাতে সাত ম্যাচ আরও। প্রতিটি ম্যাচ জিতলে ২১ পয়েন্ট পেতে পারে এবং তখন আই লিগ খেতাবের দাবিদার হতেই পারে।

খালিদ অবশ্য সাত ম্যাচ নিয়ে ভাবতে রাজি নন। বরাবরই তিনি ভেবে এবং বলে এসেছেন পরের ম্যাচ নিয়েই। ব্যতিক্রম নয় এবারও। ‘আমাদের হোম ম্যাচ। ইতিবাচক থাকতেই হবে।’

তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে যুবভারতীতে রবিবার মোহনবাগানের ভরসা নিয়ে অবশ্য প্রশ্নের জায়গা নেই। হাইতির সোনি নর্দেকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন কোচ-কর্তা-সমর্থকরা। খালিদ যেমন বললেন, ‘অবশ্যই সোনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সেরা বাজি। কিন্তু, বাকিরাও কেউই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাঝের এই দিনগুলোয় জোর দিয়েছিলাম রিকভারিতে। খুব বেশি বদল হয়নি দলের খেলায়। সবাইকে সেরাটা দিতে হবে। ইতিবাচক ফল পেতে গেলে মানসিকতায় ইতিবাচক থাকাটাও জরুরি।’

সদর্থক ভাবনা তো থাকতেই হবে, কিন্তু, দলের কৌশল কী হবে? খালিদ জানিয়েছেন, ‘ম্যাচের ওপর নির্ভর করবে খানিকটা। শুরুতে গোল পেয়ে গেলে এক রকম, না পেলে আর এক রকম। যদি গোল তাড়াতাড়ি পেয়ে যাই, ভাল। ৯০ মিনিট সনঃসংযোগ ধরে রাখতে হবে, রক্ষণে থাকতে হবে নির্ভুল। যদি মেহতাবকে (হোসেন) দরকার পড়ে, খেলবে। হেনরি কিসেকাও যদি খেলার মতো জায়গায় থাকে, দুই স্ট্রাইকারেও শুরু করতে পারি। তবে, এক স্ট্রাইকারে খেলার কথাও যে ভাবিনি তা নয়। সিদ্ধান্তে পৌঁছইনি এখনও।’

২০১৮ সালেই ইস্টবেঙ্গল থেকে চলে যেতে হয়েছিল তাঁকে, বড় ট্রফি না দিতে পেরে। আই লিগে শেষ দিন পর্যন্ত লড়াইতে ছিল ইস্টবেঙ্গল, প্রথম সুপার কাপের ফাইনালেও উঠেছিলেন। জিততে পারেননি। তারপরও ইস্টবেঙ্গল রাখেনি তাঁকে। এই ক্ষোভই কি কাজে লাগাবেন ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে? মুম্বইকার মানতে রাজি নন। ‘মোহনবাগানের দায়িত্ব নিয়েছি মোহনবাগানের জন্য ভাল কিছু করার তাগিদে। ব্যক্তিগত কোনও লক্ষ্য বা প্রতিশোধের ভাবনা মনে রেখে আসিনি। আমাদের জন্য ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যা, জিততেই হবে।’

সুখদেব সিং আর সৌরভ দাসের খেলার সম্ভাবনা নেই-ই, সবুজমেরুন সমর্থকদের জন্য সুখবর, খেলার জন্য তৈরি ওমর এল হুসেইনি। মোহনবাগানের কোচ অবশ্য দল হিসাবে বিপক্ষের প্রশংসাও করলেন। ‘বেশ ভাল দল। রক্ষণ আর আক্রমণে ভারসাম্য আছে। জনি আকোস্তা আছে রক্ষণে, বিশ্বকাপ খেলে এসেছে।’

নতুন ক্লাবে এসে প্রথম দুটি ম্যাচ উতরে যাওয়ায় কথা ওঠেনি কোনও। মিনার্ভা আর নেরোকার বিরুদ্ধে জয়ের পর, তৃতীয় ম্যাচের আগে সময় পেয়েছেন দু-সপ্তাহ। আর, বড় ম্যাচ বলে রবিবারই কিন্তু আসল পরীক্ষা খালিদের!

Leave a Reply