ফেভারিট নই, ভীতও নই বলছেন মহেশ

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

সাউথ ক্লাব। ঘাসের কোর্ট। ডেভিস কাপ। টেনিস আবার কলকাতার আলোচনায়!

এবার সামনে ইতালি। র‍্যাঙ্কিং অনুসারে ভারতের (২০) চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে (১০)। ইউরোপীয় দল বলে ভারত চেয়েছিল ঘাসের কোর্টে খেলতে। ভারতীয় টেনিস সংস্থা সেই অনুরোধে সায় দিয়েছে। তাই ১৬ বছর পর আবার কলকাতায় ডেভিস কাপের খেলা।

নিয়মও পাল্টেছে ডেভিস কাপের। এখন আর সারা বছর জুড়ে হবে না। ফেব্রুয়ারিতে ২৪ দেশ খেলবে বাছাইপর্বে। যে ১২ দেশ জিতবে, পৌঁছবে মাদ্রিদে ফাইনালে। নভেম্বরে সেখানে ১৮ দেশ। এই ১২ দেশের সঙ্গে যোগ দেবে ছ’টি দেশ। গতবার ডেভিস কাপের সেমিফাইনালে খেলা ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, স্পেন ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওয়াইল্ড কার্ড পেয়ে আর্জেন্তিনা ও গ্রেট ব্রিটেন। ভারতের সামনে বড় সুযোগ ফাইনালের মূলপর্বে খেলার, আগামী ১-২ ফেব্রুয়ারি ইতালিকে হারাতে পারলেই।

২০ বনাম ১০

ইতালিতে দুজন খেলোয়াড় যারা এটিপি র‍্যাঙ্কিং অনুসারে প্রথম পঞ্চাশে। মার্কো চেচ্চিনাতো (১৮) এবং আন্দ্রেয়াস সেপ্পি (৩৫)। এ ছাড়াও আছেন মাত্তেও বেরেত্তিনি (৫৪),থমাস ফাব্বিয়ানো (১০২) এবং ডবলসে বিশ্বের ৮৮তম সিমোনে বোলেল্লি। বিপক্ষে যাঁরা – প্রাজ্ঞেশ গুনেশ্বরন (১০৯), রামকুমার রমানাথন (১৩১), রোহন বোপান্না (ডবলসে ২২)। দেশের র‍্যঙ্কিংয়ের হিসাবেও অনেকটাই এগিয়ে ইতালি।

অক্রীড়ক অধিনায়ক মহেশ ভূপতি অবশ্য র‍্যাঙ্কিং নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। ‘ডেভিস কাপে কিছুই ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা আন্ডারডগ, কিন্তু ভীত নই। ভালই সুযোগ রয়েছে। আমাদের খেলোয়াড়রাও যথেষ্ট অভিজ্ঞ। জানে, ডেভিস কাপে র‍্যাঙ্কিং সত্যিই বড় ব্যাপার নয়। ওরা সবাই সর্বোচ্চ স্তরে খেলেছে। রামকুমার আর প্রাজ্ঞেশ গ্র্যান্ড স্লামে, এটিপি টুরের প্রতিযোগিতাগুলোয় নিয়মিত খেলে,’ বলেছেন মহেশ, বুধবার কলকাতায় ভারতীয় ডেভিস কাপ দলের সদস্যদের প্রথম অনুশীলনের পর, কলকাতা জিমখানা ক্লাবে।

প্রাজ্ঞেশ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত মহেশের মতে রামকুমারও ‘খুবই বিপজ্জনক’। ‘জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামে খেলল প্রাজ্ঞেশ, অস্ট্রেলিয়ায়। মূলপর্বে পৌঁছেছিল। সুতরাং, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। গত বছরটা দুর্দান্ত খেলেছিল। হ্যাঁ, চোটের কারণে একটু দেরিতে হলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোচ্ছে এখন।  তা ছাড়া, দলে একজন বাঁহাতি থাকার বেশ কিছু সুবিধাও আছে। আমার তো মনেই পড়ছএ না, শেষ কবে বাঁহাতি ছিল আমাদের। দু-বছর আগে ওকে এই কারণেই নেওয়া হয়েছিল ডেভিস কাপে। পুরোপুরি কৌশলভিত্তিক সিদ্ধান্ত। তখন ৩৫০ র‍্যাঙ্ক ছিল বলে নেওয়া হয়নি, দলে রাখা হয়েছিল বাঁহাতি হওয়ার জন্যই,’ বলেছেন মহেশ।

ঘাসের কোর্টে রামকুমার কেন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন, ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। ‘নিউপোর্টে গত বছর রামকুমার কী কী করেছিল, নিশ্চয়ই ভোলেননি কেউ। ফাইনালে উঠেছিল, জিততেও পারত রোড আইল্যান্ডে, এটিপি ওয়ার্ল্ড টুরে। আমরা তাই ইতিবাচকই থাকছি।’

সাউথ ক্লাবে

কোচ জিশান আলি কখনও ডেভিস কাপের ম্যাচ খেলেননি সাউথ ক্লাবে। অথচ, কলকাতা থেকেই উঠে এসেছিলেন। মহেশের আবার ডেভিস কাপে অভিষেক হয়েছিল এই সাউথ ক্লাবেই।

জিশানের কথায়, ‘কোচ হিসাবে যুক্ত থাকছি এবার। এটাই সবচেয়ে আনন্দের।’ মহেশ আবার ফিরে গেলেন খেলোয়াড়ি দিনগুলোয়। ‘আমরা তখন চ্যালেঞ্জার প্রতিযোগিতাগুলোয় খেলে খেলে নিজেদের তৈরি করতাম। বিপক্ষে যখন সর্বোচ্চ স্তরের খেলোয়াড়রা থাকত, অন্যরকম হয়ে দাঁড়াত। এখন তো সবাই গ্র্যান্ড স্লামে খেলে। তাই র‍্যাঙ্কিং নিয়ে ভাবনার জায়গাই নেই। ভাল খেলে ওরা সবাইকেই হারাতে পারে।’

সাউথ ক্লাবকে অবশ্য ভুলতে পারবেন না কখনও। ‘অভিষেক হয়েছিল। বহু ম্যাচ খেলেছি এখানে। ওই সময় (গত শতাব্দীর নয়ের দশকের মাঝামাঝি) ঘাসের কোর্টে খেলাটাই প্রচলিত ছিল। কলকাতার টেনিস ঐতিহ্যও ভোলার নয়। তাই, কলকাতায় এসে বেশ উত্তেজিত।’

ফেভারিট?

জিশান একেবারেই মানলেন না। ‘‌ঘাসের কোর্টে আমরাও তো খুব বেশি খেলি না। অনেক দিন পর আবার খেলব। তাই যতটা ভাবা হচ্ছে হয়ত ততটা সুবিধাজনক হবে না,’ বললেন। মহেশের গলায়ও প্রায় একই সুর। ‘যদি তেমনই হত যে ঘাসের কোর্টে ওরা পারবে না, তা হলে তো খেলতেই আসত না, বাড়িতে বসে থাকত, তাই না?’ অভিজ্ঞ দুজনেই আসলে নিজেদের দলের অনভিজ্ঞদের ওপর চাপ বাড়াতে রাজি নন। ভাল করেই জানেন তাঁরা, এই টাই জিতলে মাদ্রিদে নভেম্বরে ফাইনালের ১৮ দলে থাকার সুযোগ।

র‍্যাঙ্কিংয়ের মতো ইতিহাসও অবশ্যই ভারতের বিপক্ষে। আগের পাঁচবার দেখায় একবারই জিতেছিল ভারত। সেটাও কিন্তু ১৯৮৫ সালে এই সাউথ ক্লাবেই।

মহেশের তরুণ তুর্কিরা কি পারবেন নতুন ইতিহাস গড়ে মাদ্রিদ পৌঁছতে?

Leave a Reply