দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে ৮ পয়েন্টে

Spread the love

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ইস্টবেঙ্গল – ১ ইন্ডিয়ান অ্যারোজ – ০

(খাইমে ৪৮)

ষষ্ঠ থেকে একলাফে দ্বিতীয়! লাভ অবশ্য হল না বিশেষ। দিনের শেষে এক ম্যাচ বেশি খেলে চেন্নাই সিটি এফসি এখন এগিয়ে আট পয়েন্টে!

রিয়েল কাশ্মীর এবং চার্চিল ব্রাদার্সের পয়েন্টও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সমানই ছিল, ১২ ম্যাচে ২২। এমন পরিস্থিতিতে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম – প্রথমে দেখতে হবে পরস্পরের বিরুদ্ধে খেলার ফল। সেখানে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল –

চার্চিল- ইস্টবেঙ্গল: ১-২ (পয়েন্ট, ইস্টবেঙ্গল ৩)

ইস্টবেঙ্গল-রিয়েল কাশ্মীর: ১-১ (পয়েন্ট, ইস্টবেঙ্গল ১, কাশ্মীর ১)

রিয়েল কাশ্মীর-চার্চিল: ০-০ (পয়েন্ট, কাশ্মীর ১, চার্চিল ১)

পরস্পর মুখোমুখি ম্যাচ থেকে ইস্টবেঙ্গল ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, সবচেয়ে বেশি। রিয়েল কাশ্মীর ২ এবং চার্চিলের ১ পয়েন্ট। সেই হিসাবে ইস্টবেঙ্গলের থাকা উচিত দ্বিতীয় স্থানে। যদিও এআইএফএফ-এর ওয়েবসাইটে প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ স্থানে তুলে আনা হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে, পরে অবশ্য ঠিক করে নেওয়া হয় তালিকা।  আর, নিজেদের মাঠে আইজল এফসি-র বিরুদ্ধে ৪-১ এগিয়েও শেষে দুটি গোল খেয়ে ৪-৩ জিতে চেন্নাই আরও এগিয়ে গেল খেতাবের দিকে।

https://i-league.org/points-table/i-league/

ইস্টবেঙ্গলের প্রথমার্ধ

ভুলে-ভরা, তাগিদহীন। বিপক্ষে অনূর্ধ্ব২২ ফুটবলাররা। একজনও বিদেশি নেই। ইস্টবেঙ্গল তবুও সাহসী নয়। এক স্ট্রাইকারে জবি জাস্টিন। বেশিরভাগ সময়ই একা। কখনও কখনও খাইমে সানতোস কোলাদো বা তোনি দোবালে উঠে এসেছিলেন বটে। চোখে পড়ার মতোই নয়। উল্টে ফ্লয়েড পিন্টোর উঠতি প্রতিভারা ঝলক দেখাচ্ছেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পাস খেলছেন। থাকছেন পরস্পরের কাছাকাছি। অযথা তাড়াহুড়ো নেই। দুই উইং দিয়ে দৌড়ে বারবারই ঢুকে পড়ছিলেন ইস্টবেঙ্গল বক্সে। আগে যে ম্যাচগুলো হেরেছিল, এতটা খারাপ খেলেছিল কিনা ইস্টবেঙ্গল, প্রশ্ন তখন প্রেস বক্সে।

দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টাল

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর কৌশলে পরিবর্তন। দুজন স্ট্রাইকারে চলে-যাওয়া, সরাসরি। বিপক্ষকে অযথা সমীহ করার দরকার নেই, বুঝে। ভারত এই অযথা সমীহ করতে গিয়ে কয়েক দিন আগেই ডুবেছিল আরও বড় প্রতিযোগিতায়, অনেক বড় সাফল্যের দরজা থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল, নিজেরাই দরজা বন্ধ করে বাইরে বেরতে না-পারায়! সাবলীল আক্রমণে। বারপাঁচেক বিপক্ষের গোলে হানা। তারই মধ্যে ম্যাচের একমাত্র গোলও, ৪৮ মিনিটে। বরিস সিংকে পেরিয়ে ডানদিক দিয়ে বক্সে নিচু ক্রস রেখেছিলেন জবি জাস্টিন। বক্সে এমন বল এলে যেমন জটলা হয়, হয়েওছিল। তার মধ্যেই স্পেনীয় খাইমে সানতোস খুঁজে পেলেন গোল। ওই গোলেই তিন পয়েন্ট। এ ছাড়াও গোল পেতে পারতেন জবি নিজে। গোলরক্ষক প্রভসুখনকে পেরিয়েও ডানদিক থেকে যে শট নিলেন, অতি দুর্বল, নিশানায়ও ছিল না। তোনিও নষ্ট করলেন সুযোগ যেমন, খাইমেও পাননি দ্বিতীয় গোল। কিন্তু, এক গোলে জিতলেও তিন পয়েন্টই পাওয়া যায় যখন, লাল হলুদের স্পেনীয় কোচের কাছে তা যথেষ্ট। বিশেষত, পরের ম্যাচই যখন ডার্বি!

ম্যাচের সেরা

বোরখা গোমেজ পেরেজ, রক্ষণের স্তম্ভ। জনি আকোস্তার সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া এখন অনেক ভাল। তবুও, বিপক্ষের অনূর্ধ্ব২২ ফুটবলারদের বিপক্ষেও ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ লালরিনদিকা রালতের অভাবে আক্রমণ রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে বারবারই অসফল। তা ছাড়াও, দুই সাইডব্যাক, বরাবরের মতোই যথেষ্ট সমস্যায় ফেলছিলেন দলকে। এমনকি, চুলোভা ফিরে আসার পরও। তাই, ঝাঁঝটা গিয়ে পড়ছিল রক্ষণে। তা সামলানোর পুরস্কার পেয়ে বোরখা-র মন্তব্য, ‘তিন পয়েন্ট পেয়েছি, সন্তুষ্ট। আর, রক্ষণের কাজটা শুধু ডিফেন্সে যারা খেলে তাদেরই নয়, গোটা দলেরই।’ কাসিম আইদারা অন্য দিনগুলো যতটা নির্ভরতা দেন, অ্যারোজের বিরুদ্ধে ততটা পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আক্রমণে চাপ বাড়িয়ে নিজেদের রক্ষণের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল।

৯৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখলেন মনোজ মহম্মদ, একেবারেই অপেশাদারিত্বে। ৮৬ মিনিটে প্রথমবার দেখেছিলেন হলুদ কার্ড। ইনজুরি টাইম যখন শেষের পথে রেফারির অনুমতি না নিয়ে মাঠে ঢুকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। ২৭ জানুয়ারি ডার্বিতে নেই এখন। ইস্টবেঙ্গলের স্পেনীয় কোচ অবশ্য এই প্রথমবার ম্যাচ পরিচালকদের বিরুদ্ধে বললেন। ‘সহকারি রেফারি অনুমতি না দিলে কী করে মাঠে নেমেছিল মনোজ? জানি না, এমন আবার হয় নাকি?’ তাঁর চিন্তা বাড়ল এখন। সালাম রঞ্জন সিং এএফসি থেকে ফিরে এসেছেন, ২৭ জানুয়ারি ডার্বিতে তাঁকে কীভাবে ব্যবহার করেন আলেখান্দ্রো, দেখার বিষয়।

ইস্টবেঙ্গল – রক্ষিত দাগার; লালরাম চুলোভা, জনি আকোস্তা, বোরখা গোমেস, মনোজ মহম্মদ; লালদানমাউইয়া রালতে (ব্র্যান্ডন ভ্যানলালরেমদিকা ৪৬), কাসিম আইদারা, কমলপ্রীত সিং (সিয়াম হাঙ্ঘাল ৮২), তোনি দোবালে (সুরাবুদ্দিন আলি মল্লিক ৮৮); খাইমে সানতোস কোলাদো, জবি জাস্টিন

ইন্ডিয়ান অ্যারোজ – প্রভসুখন গিল; আশিস রাই, আনোয়ার আলি, জিতেন্দ্র সিং, বরিস সিং থাংজ্যাম (দীপক তাংরি ৮০); অমরজিৎ সিং কিয়াম, লালেনগামাউইয়া; রাহুল কানোলি প্রবীণ, বিক্রম প্রতাপ সিং (রহিম আলি ৫৭), খুমানথেম নিনথোইগামবা মিতেই; রোহিত দানু (সুরেশ সিং ওয়াংজ্যাম ৭৩)

রেফারি – তেজাস বিশ্বাসরাও নাগভেনকার

Kashinath Bhattacharjee
Covered two FIFA World Cups in Brazil (2014) and Russia (2018), UEFA Champions League Final in Moscow (2008). In Sports Journalism since 1993. twitter: @bkashi
https://www.facebook.com/kashinath.bhattacharjee

Leave a Reply