হেরে খেতাবি লড়াই থেকে দূরেই ইস্টবেঙ্গল

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

চেন্নাই – ২        ইস্টবেঙ্গল – ১

(পেদ্রো ৪৮, রোমারিও ৭০)         (লালদানমাউইয়া ৯)

উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর ভারত হয়ে এবার আই লিগ ট্রফির দক্ষিণ ভারতে পাড়ি দেওয়া প্রায়-নিশ্চিত!

আইজল এফসি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১৬-১৭ মরসুমে। গতবার খেতাব মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি-র। চেন্নাই সিটি এফসি এবার নিশ্চিতভাবেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সবচেয়ে বড় দাবিদার। অন্তত ১৪ জানুয়ারি নিজেদের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে আবার ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর।

লিগের ফাইনাল হয় না। কিন্তু কোনও কোনও ম্যাচ এমন মাত্রা পেয়ে যায় যেখানে যারা জেতে, খেতাবের দিকে এগিয়ে যায় অনেকটা। পিছিয়ে-থাকা ইস্টবেঙ্গলের কাজ ছিল চেন্নাইয়ের তরতরিয়ে এগিয়ে-যাওয়া থামানো। ঘরের মাঠে যেমন ব্যর্থ হয়েছিল আলেখান্দ্রো মেনেন্দেজের ইস্টবেঙ্গল, অ্যাওয়ে ম্যাচেও হারল একই ফলে। তা-ও, ৯ মিনিটে লালদানমাউইয়া রালতের গোলে এগিয়ে গিয়েও। দ্বিতীয়ার্ধে চেন্নাইয়ের দু-গোল দেখিয়ে দিল, ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ এখনও নির্ভরতা দিতে পারছে না দলকে।

১১ ম্যাচে ১৫ গোল খেয়েছে লালহলুদ রক্ষণ। প্রথম ছয়ে থাকা দলগুলির মধ্যে কম ম্যাচ খেলেও সবচেয়ে বেশি! মোহনবাগান এবং চেন্নাইয়ের জালে বল ঢুকেছে ১৪ বার, যথাক্রমে ১৩ ও ১২ ম্যাচে। আর, চেন্নাই ১৪ গোল খেলেও ২৭ গোল দিয়েছে, যা ঢেকে দিয়েছে রক্ষণের ব্যর্থতা। বোর্খা গোমেজ পেরেজ এবং জনি আকোস্তা জামোরা, স্টপার হিসাবে দুই বিদেশির উপস্থিতিও ব্যর্থ গোল আটকাতে যেমন, স্পেনীয় কোচের দল রাখতে পারছে না বলের দখলও, যা পরোক্ষে চাপ কমায় রক্ষণের ওপর। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে যে দুর্বলতা প্রকট হল আবারও।

প্রথমার্ধ তবুও ইস্টবেঙ্গলেরই। বাইরের মাঠে সম্ভাব্য-চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে তাড়াতাড়ি গোল পেয়ে যাওয়ার কারণে। কর্নার পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। লালরিনদিকা রালতে বল রেখেছিলেন দূরের পোস্টে। বোর্খার হেড গোললাইনের কাছে ওত পেতে দাঁড়িয়ে থাকা লালদানমাউইয়ার মাথায়। চেন্নাই রক্ষণ যেন ভুলেই গিয়েছিল তাঁকে নজরে রাখতে। সহজেই গোল। প্রথমার্ধে তারপর সুযোগ পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল, প্রধানত জবি জাস্টিনের ব্যর্থতায়। প্রতিযোগিতায় সাত গোল সত্ত্বেও কাজের দিন জবির এই ব্যর্থতার মাসুল দিতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে, দ্বিতীয়ার্ধে।

৪৮ মিনিটেই গোলশোধ।  ভাগ্য সহায় ছিল, বলতে চাইবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু অডউইনের শটে যেভাবে পা লাগিয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন পেদ্রো মানজি, বোঝা সহজ, কেন ১১ গোল নিয়ে তিনি শীর্ষেই আছেন, উইলিস প্লাজার সঙ্গে। দ্বিতীয় গোলের সময় সান্দ্রো পাস দিয়েছিলেন প্রবিত্ত রাজুকে, ডানদিকে। রাজুর পাস থেকে গোল রোমারিওর, বক্সে দুই লালহলুদ ডিফেন্ডারকে সঙ্গে নিয়েই।

বাকি সময় চেষ্টা করলেও আক্রমণে যতটা ঝাঁঝ থাকলে বিপক্ষ রক্ষণকে সত্যিই চাপে ফেলা যায় তেমন কিছু হয়নি। বরঞ্চ প্রথমার্ধে ক্রমাগত বল তাড়া করে মাঝমাঠের একচ্ছত্র দখলদারি চেন্নাইকে না নিতে দিলেও, দ্বিতীয়ার্ধে চেন্নাই নিয়ন্ত্রণ করেছিল ম্যাচের গতি। ১১ ম্যাচে চতুর্থ হার ইস্টবেঙ্গলের, মোহনবাগানের সমান। কলকাতার দু-দলের লিগ তালিকায় যথাক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে থাকায় তাই আশ্চর্যের কিছু নেই!

চেন্নাই? ১২ ম্যাচে ২৭। দ্বিতীয় স্থানে-থাকা চার্চিলের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান পাঁচ। বাকি আট ম্যাচ, মানে ২৪ পয়েন্টের অর্ধেক পেলেই খেতাব নিশ্চিত করে ফেলতে পারে। এবারের আই লিগ জয়ের ম্যাজিক-পয়েন্ট যে ধরা হচ্ছে ৩৭-৩৮!

ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ – ১৮ জানুয়ারি, ইন্ডিয়ান অ্যারোজ, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন

Leave a Reply