ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে দাঁড়ালেন মোহনবাগানের কোচ

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ৬ জানুয়ারি ২০১৯

রিয়েল কাশ্মীরের কাছে ঘরের মাঠে হেরে মোহনবাগানের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন শঙ্করলাল চক্রবর্তী। ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে প্রথমেই বলে দিলেন, ‘ক্লাবকে জানিয়ে দিয়েছি, আর থাকতে চাই না।’

মোহনবাগানের তরফে তাঁকে তখনই কিছু জানানো হয়নি। আই লিগে মোহনবাগানের পরের ম্যাচ আগামী ৯ জানুয়ারি। মিনার্ভা এফসি-র বিরুদ্ধে, কলকাতাতেই। মাঝে মাত্র দু’দিন। যদি এমন হয় যে, এই দু’দিনে নতুন কোচ খুঁজে নিতে পারল না মোহনবাগান, শঙ্করলাল জানিয়েছেন, ‘তেমন পরিস্থিতিতে পরের ম্যাচে থাকতেও পারি। কিন্তু, মনে হচ্ছে, সব দিক দিয়ে চেষ্টার পরও, পারছি না। তাই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।’ সাংবাদিক সম্মেলনের আগে ফুটবলারদেরও জানাননি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা।

বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এবার মোহনবাগানের পারফরম্যান্স একেবারেই আশানুরূপ নয়। আইজলের বিরুদ্ধে ২-২, চার্চিলের কাছে ০-৩ হার, চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে ১-১, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যদিও খাতায়কলমে অ্যাওয়ে ম্যাচ, হার ২-৩। লাজংকে ২-০ হারালেও রবিবার হারতে হল আই লিগে নবাগত রিয়েল কাশ্মীরের কাছে, ১-২। যুবভারতীতে ৬ ম্যাচে তিনটি হার, মাত্র ৫ পয়েন্ট এবং ৮ গোল দিয়ে ১১ গোল খাওয়া। ঘরের মাঠে টানা ব্যর্থতার এই চাপই কি আসলে সরে দাঁড়ানোর কারণ?

শঙ্করলাল মানতে রাজি নন। ‘চাপ নয়। যা করতে চাইছি, পারছি না। কোনওভাবেই হচ্ছে না। তাই মনে হচ্ছে, অন্য কেউ হয়ত দায়িত্ব নিয়ে আরও ভালভাবে বুঝিয়ে, যা চাইবেন করাতে পারবেন। তাই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। বড় দলে ব্যর্থ হলে সরে যাওয়াই নিয়ম। দায় সবই আমার, আমিই পারিনি।’

আট বছর পর কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মোহনবাগানকে। আই লিগের আগে তাই নতুন করে জেগে উঠেছিল সবুজমেরুন শিবির। প্রাথমিকভাবে রক্ষণ সামলানোর জন্য লালছনকিমা এবং সুখদেব সিংকে নেওয়া হয়েছিল। দুই ভারতীয় নির্ভরতা দেবেন
রক্ষণে, আশায়। চোট এবং পরে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার মতে আগের ক্লাব মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি-র সঙ্গে চুক্তি না মানার কারণে সুখদেব খেলতে পারেননি। এবং বিদেশি ডিফেন্ডার চেয়েও পাননি কাউকে। শঙ্করলাল অবশ্য এগুলোর কোনও কিছুকেই তাঁর সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসাবে দেখালেন না।

তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হবে কিনা, মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ এখনও সরকারিভাবে কিছু জানায়নি। শঙ্করলাল নিজেও যেমন সংবাদমাধ্যমকে বলেননি, ক্লাবের কোন বিশেষ কর্তাকে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ফুটবল সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় আবার পরিষ্কার বলে গেলেন, তাঁকে অন্তত এই সিদ্ধান্তের কথা জানাননি কোচ। রাতে তাঁরা আলোচনায় বসবেন। সিদ্ধান্ত হবে সবার সঙ্গে কথা বলার পরই।

১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট দিয়ে লিগের ৯ ম্যাচ বাকি থাকতে সরে দাঁড়ালেন কোচ। নির্বাচন-পরবর্তী মোহনবাগানে এখন অপেক্ষা নতুন কোচের। অনিচ্ছুক জানানোর পর কি আর রেখে দেওয়া হবে শঙ্করলালকে?

Leave a Reply