গুরপ্রীত ● শেখা এবং আরও ভাল খেলার ইচ্ছেই দলের মূল কথা

Spread the love

রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক

কলকাতা, ৩ জানুয়ারি ২০১৯

সুনীল ছেত্রী একা নন, ২০১১ এএফসি এশিয়ান কাপে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাঁধুও!

তখন তাঁর বয়স সবে আঠের। জাতীয় দলের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলেননি। সুব্রত পাল তখন স্বপ্নের ছন্দে। দ্বিতীয় গোলরক্ষক ছিলেন আর এক বাঙালি শুভাশিস রায় চৌধুরি। জাতীয় দলের কোচ আরও এক ইংরেজ বব হটন। ডেকে নিয়েছিলেন গুরপ্রীতকে, জাতীয় দলে।

সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুরপ্রীত বলেছেন হাসতে হাসতেই, ‘তখনও বারবার মনে হচ্ছিল, সুব্রত-ভাই নয়, আমিই খেলি!’ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন সুব্রতর। ‘দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে, আমারও ছিল। কিন্তু ওই প্রতিযোগিতায় সুব্রত-ভাইয়ের পারফরম্যান্স চোখ খুলে দিয়েছিল। কতবার যে দলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়েছিল, গুনে বলা যাবে না। দুর্দান্ত ছন্দে ছিল সে বার।’

ভারতীয় ফুটবল দলের সমর্থকরা নিশ্চিতভাবেই চাইবেন, একই রকম খেলুন গুরপ্রীতও। ‘তবে চাইব, দল হিসাবে আমরা যেন এমন খেলতে পারি যেখানে গোলরক্ষককে একা কুম্ভ হয়ে উঠতে হবে না। যেন সবাই আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বুঝতে পারে যে, সত্যিকারের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলছে।’

কোচ স্টিফেন কনস্টান্টাইনের তিনি প্রথম পছন্দ কারণ তাঁর ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা, আন্তর্জাতিক আসরে যা খুবই জরুরি। আর, ইংরেজ কোচ একবার বলে দেওয়ার পর ভারতীয় ফুটবলাররা সবাই-ই মনে করছেন, এক-একটা করে ম্যাচ ধরে এগোন দরকার। ‘মনঃসংযোগ এখন শুধুই থাইল্যান্ড ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে সেরা ফলের দিকে তাকিয়ে আছি সবাই। ওই ম্যাচটা হয়ে গেলে ভাবব সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে নিয়ে।’

ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী ভারত এখন ৯৭তম স্থানে। গ্রুপে বিপক্ষে যে তিন দেশ, র‍্যাঙ্কিং অনুসারে – থাইল্যান্ড (১১৮), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (৭৯) এবং বাহরিন (১১৩)। গুরপ্রীত মনে করছেন, ‘তিনটি ম্যাচই খুব কঠিন। এশিয়ান কাপে খেলতে আসছে মানে সব দলই প্রয়োজনীয় হোমওয়ার্ক সেরে আসবে। আশা করছি, আমাদের সমীহও করবে বাকি দলগুলো। কাজে ও ভাবনায় চটপটে হতে হবে আমাদের।’

গোলরক্ষকের কাজ সহজ হয়ে যায় ডিফেন্ডারদের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিকঠাক থাকলে। বেঙ্গালুরু এফসি-র হয়ে আইএসএল-এ খেলছেন এখন গুরপ্রীত। জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক মনে করছেন, ‘খেলতে খেলতে বোঝাপড়া বাড়ে, আস্থা বাড়ে একে অন্যের দক্ষতায়। একসঙ্গে দীর্ঘদিন খেললে আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। যে কোনও ভাল দলের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ রক্ষণভাগের ফুটবলারদের সঙ্গে গোলরক্ষকের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, বেশ কিছু দিন ধরে যা নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়তে হয়নি আমাদের।’

শুনিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার কথাও। ‘২০১১ সালে এশিয়ান কাপ ছিল জাতীয় দলের হয়ে আমার প্রথম সফর। ভারতীয় দলের বড় বড় তারকাদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারব, তখন ওইটুকুই ভাবতে পারতাম না! প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছিলাম, চেয়েছিলাম সব শুষে নিতে। সিনিয়র গোলরক্ষকরা ছিল। সুব্রত-ভাইয়ের সঙ্গে শুভাশিস-ভাই (রায়চৌধুরি)। অনুশীলনে ওঁরা কী কী করছেন, দেখে শিখে নিতে চাইতাম। কখনও কখনও তো ওদের নকলই করতাম! আবার, বাইচুং-ভাই, রেনেডি-ভাই এবং সুনীল-ভাইয়ের বিপক্ষে অনুশীলনে খেলাও কি কম বড় কথা!’

তবে, দুটি দলের তুলনা করতে নারাজ এখন গুরপ্রীত। ‘২০১১-র দলে সবাই কিংবদন্তি স্তরের। দুর্দান্ত প্রতিভা ছিল প্রায় প্রত্যেকের, কোচও দুরন্ত। তবে, দল গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিন একই সিস্টেম মেনে খেলার প্রশ্নে বোধহয় এবারের দল খানিকটা এগিয়ে থাকবে। শেখা এবং আরও ভাল খেলার ইচ্ছেই এবারের দলের মূল কথা। সাত বছর আগে আমার বয়স ছিল আঠের। এবার দলে বেশ কয়েকজন অনূর্ধ্ব২৩ ফুটবলার, যা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে গত ৭-৮ বছরে তৃণমূল স্তরে কত ভাল কাজ হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলে’, মনে করছেন পাঞ্জাব দা পুত্তর!

তথ্যসূত্র – এআইএফএফ ওয়েবসাইট

Leave a Reply