দরকারে সিএএস ও ফিফায় যাবেন, জানালেন বাজাজ

Spread the love

এআইএফএফকে সময় দেওয়া হল ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। মিনার্ভা-মালিকের সংগঠনের দাবি, সব ম্যাচ দেখাতে হবে, সমমানের এবং সমসংখ্যক ক্যামেরা দিয়ে

সংবাদমাধ্যমকে যে চিঠি দিয়েছেন, প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাকেও। সঙ্গে, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জবাব দেওয়ার সময়। যদি জবাব না আসে? মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি-র মালিক রনজিৎ বাজাজের সাফ কথা, ভারতের আদালত, কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস) এবং ফিফার দরজায় কড়া নাড়বেন!
আই লিগের প্রতি এআইএফএফ-এর বিমাতৃসুলভ আচরণের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ তাঁর এবং তাঁর নেতৃত্বে নতুন গড়ে-ওঠা আই লিগ (প্রাইভেট) ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের। গত ২২ ডিসেম্বর স্টার স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, আই লিগের দ্বিতীয় পর্বে ৬১-র মধ্যে মাত্র ৩০ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হবে। নতুন এই সংস্থার এক নম্বর দাবি, সব ম্যাচই দেখাতে হবে। দুই, টেলিভিশনে আই লিগ সম্প্রচারের মান কোনও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন লিগের তুলনায় কম হওয়া কোনওভাবেই সমীচীন নয়। অর্থাৎ, আইএসএল যদি ১৩ ক্যামেরা ব্যবহার করে দেখানো হয়, আই লিগেও সমমানের সমানসংখ্যক ক্যামেরা ব্যবহার করেই দেখাতে হবে।
এআইএফএফ-এর প্রতি তাঁর অভিযোগ প্রচুর। দেশের কোচ ঠিক করে দিচ্ছেন ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনও ব্যক্তি। দেশের ফুটবলকে জলাঞ্জলি দিয়ে, এমনকি খুন করে, সেই ব্যক্তিমালিকানাভিত্তিক লিগকে ‘দেশের লিগ’ নামে প্রচার ও প্রসারের অন্তঃসারশূন্যতা এবং তা যতবার ধরা পড়ছে তত বাড়ছে সেই প্রস্তুতি। দেশের ক্লাবগুলি থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের কিনে নিয়ে আইএসএল-এর তকমার আড়ালে তাদের জাতীয় দলের ফুটবলার হিসাবে চালানোর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের কাছে সেই লিগের উৎকর্ষ প্রচার। এমন একটা অবস্থা তৈরি করা যেখানে ক্লাবগুলো শেষ হয়ে যায় যাতে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগই থেকে যায় দেশের একমাত্র ফুটবল হিসাবে, সেই রূপরেখা তৈরির চেষ্টাও করছে দেশের ফুটবল সংস্থা, সচেতনেই, অভিযোগ বাজাজদের। দুজনের নাম করেই অভিযোগ করা হল। চিরাগ তান্না এবং সুন্দর রাজন।
কীভাবে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে ক্লাবগুলোকে?
বাজাজের ব্যাখ্যা, ‘আগেরবার বলা হয়েছিল সব ম্যাচ দেখানো হবে, দেখানোও হয়েছিল। তাই এবার যখন বলা হয়েছিল সব ম্যাচ দেখানো হবে, আমরা কেউই কোনও কথা বলিনি। লিখিতও চাইনি। হ্যাঁ, লিখিত কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু, সেটাকে আজ বলা হলে মানব কেন? আগেরবারও কি লিখিত আকারে দেওয়া হয়েছিল? আসলে, যত দিন যাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয়তায় আই লিগ অনেক পেছনে ফেলে দিচ্ছে আইএসএল-কে। তাই আই লিগের ম্যাচ দেখানোর সময় দুপুর দুটো, তা-ও সপ্তাহের কাজের দিনে! তারপরও সন্ধে সাড়ে সাতটার ম্যাচকে পেছনে ফেলে দিচ্ছি টিআরপি-তে। সেই কারণে এবার টিআরপি জানানোই বন্ধ করে দেওয়া হল। আবার বলা হল যে, ম্যাচ দেখানো হবে না। আমরা চুক্তি করেছিলাম স্পনসরদের সঙ্গে, তাঁরা বলেছিলেন, ম্যাচ দেখানো হবে যখন, টাকা দিতে পারবেন। এবার, ম্যাচ দেখানোই বন্ধ। তা হলে, কেন টাকা দেবেন তাঁরা? আর, টাকা যদি না দেওয়া হয়, আমরা দল চালাব কীভাবে? আই লিগের কতগুলো ক্লাব এভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা আর খেলছে না এখন (এমন ১৭ ক্লাবের নামও দিয়েছেন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে), আরও কত বন্ধ হবে, কে জানে! লক্ষ্যটাই যে আসলে তা-ই! হাতে আর কোনও পছন্দই থাকবে না, এমন একটা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া, যাতে যা বলবে তা মেনে নিয়ে খেলতে হবে, খেলার জন্য টাকা দিতে হবে! আর তা যদি না পারো, বন্ধ করে দাও। বাধ্য হবে বহু ক্লাবই, এমন পরিস্থিতিতে, ফুটবল বন্ধ করে দিতে।’
সাত ক্লাবের জোট বলা হলেও সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন মাত্র তিন ক্লাবের মালিক। বাজাজ অবশ্য জানিয়ে দেন যে, নেরোকা এবং আইজলের মালিকরা তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন তাঁর ক্লাবের হয়ে কথা বলতে। শিলং লাজংয়ের মালিক এআইএফএফ-এর সহসভাপতি হওয়া সত্ত্বেও এই সভায় উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলেন, অনিবার্য় কারণে পারেননি। শুধু, প্রস্তাবিত সাত ক্লাবের মধ্যে রিয়েল কাশ্মীর কর্তারাই শেষ তিন-চারদিনে কেমন যেন চুপচাপ, জানালেন বাজাজ।
কিন্তু, ঘোষণা সত্ত্বেও কেন নেই শিলং লাজংয়ের মালিক? এআইএফএফ-এর সহ সভাপতি বলেই কি?
বাজাজ পরিষ্কার জানালেন, সর্বভারতীয় সংস্থার সহসভাপতি হলেও লাজংয়ের মালিক কোনও বৈঠকেই যাননি গত প্রায় তিন বছর। যে কারণে তাঁকে এআইএফএফ থেকে মেলও পাঠানো হয় না সব সময়। আর, লাজং মালিক নাকি বুঝেই গিয়েছেন, কীভাবে দেশের ফুটবলকে শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। তাই তিনি টাকা খরচ করে দল গড়েননি এবার, নিজের অঞ্চলের অনভিজ্ঞ ও কমবয়সি ফুটবলারদের নিয়েই খেলছেন, হারছেন। তিনিও আছেন এই বিদ্রোহীদের সঙ্গেই।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান তাঁদের সঙ্গে আপাতত নেই। কলকাতার দুই ক্লাবকে ‘মেল’ করা হয়েছিল, উত্তর মেলেনি। ‘ইস্টবেঙ্গল তখন কোয়েসের সঙ্গে কথা বলছিল, মোহনবাগানে চলছিল নির্বাচন। হয়ত সেই কারণেই উত্তর পাইনি। কিন্তু, এখনও আশা করছি, উত্তর পাব। ওঁরা আমাদের সঙ্গে এলে আমাদের হাত আরও শক্ত হবে,’ জানালেন বাজাজ।
এমন দিনে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করলেন বাজাজ এবং তাঁর সঙ্গীরা যে দিন কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ এবং চার্চিল ব্রাদার্সকে খেলতে বাধ্য করা হল অনুশীলনের জন্য নির্দিষ্ট মাঠে, মূল মাঠে নয়! সম্প্রচার ভুলেই যান, আই লিগের খেলার জন্য স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে না এখন!

Leave a Reply