আই লিগ সম্প্রচার বিতর্কে স্টার স্পোর্টসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণা রবিবার?

Spread the love

সরাসরি বিদ্রোহের রাস্তায় এবার আই লিগ (প্রাইভেট) ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছে কলকাতায়। আই লিগের সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা স্টার স্পোর্টসের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানাতে।২০১৮-র অক্টোবর মাসে এই সংস্থার আত্মপ্রকাশ। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, চার্চিল ব্রাদার্স এবং অবশ্যই ইন্ডিয়ান অ্যারোজকে বাদ দিয়ে বাকি সাত ক্লাবের কর্তারা সদস্য। ইস্ট-মোহনের সামনে আগামী বছর আইএসএল-এ খেলার সুযোগের প্রস্তাব। চার্চিল গতবার অবনমনে পড়া সত্ত্বেও এবার আই লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং, এই তিন ক্লাব নেই বিদ্রোহী তালিকায়। সংস্থার অন্যতম মুখ অবশ্যই মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসি-র রনজিৎ বাজাজ, যাঁর ক্লাব গতবারের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন। সঙ্গে আছেন গোকুলম এফসি-র ভিসি প্রবীণ, চেন্নাই সিটি এফসি-র রোহিত রমেশ, রিয়েল কাশ্মীরের শামিম মেরাজ, শিলং লাজংয়ের লারসিং মিং, আইজল এফসি-র রবার্ট রয়তে এবং নেরোকা এফসি-র নাওবা থাংজম।রনজিৎ বাজাজকে বলা হচ্ছে এখন আই লিগের ‘অ্যালবার্ট পিন্টো’! ‘গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’? ২০১৭-১৮ আই লিগ জিতে এত বড় অপরাধ করে ছিল মিনার্ভা যে, ২০১৮-১৯ আই লিগের দ্বিতীয় পর্বে মিনার্ভার মাত্র একটি ম্যাচ দেখানো হবে সরাসরি!সম্প্রতি স্টার স্পোর্টসের তরফে এবারের আই লিগের দ্বিতীয় পর্বের বাকি ৬১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩০টি ম্যাচ সরাসরি দেখানোর বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ দেখানো হবে মোহনবাগানের (৯)। ঠিক পেছনে ইস্টবেঙ্গল (৮) এবং চেন্নাই সিটি এফসি (৮)। এবারই আই লিগে অভিষেক-হওয়া রিয়েল কাশ্মীরেরও ৪ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হবে, সেখানে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের মাত্র একটি (তালিকা ১)! তা-ও নিজেদের মাঠ পঞ্চকুলার তাউ দেবীলাল স্টেডিয়ামে নয়, কলকাতায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলার ‘লাইভ’ সম্প্রসারণ! এরপরও ক্রুদ্ধ হবেন না রনজিৎ বাজাজ? টুইট করবেন না পরপর?

তালিকা – ১

কোন দলের কতগুলি ম্যাচ টিভিতে?

ক্লাবম্যাচহোম ম্যাচ
মিনার্ভা
অ্যারোজ
আইজল
গোকুলম
কাশ্মীর
চার্চিল
লাজং
নেরোকা
চেন্নাই
ইস্টবেঙ্গল
মোহনবাগান

কিন্তু, কেন এমন সিদ্ধান্ত স্টার স্পোর্টসের?সহজবোধ্য কারণ, জনপ্রিয়তায় স্টার স্পোর্টসের প্রিয় আইএসএল-কে পেছনে ফেলে দিচ্ছে ‘বৈমাত্রেয় সন্তান’ আই লিগ, তাই!সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা এবং তাদের বাজারসঙ্গী আইএমজি-রিলায়েন্সের ‘পুত্রসন্তান’ আইএসএল, ‘সৎপুত্র’ আই লিগ – গত পাঁচ বছর ধরে এটাই সত্যি, বলছেন বাজাজ। আই লিগকে ‘খুন’ করার চেষ্টা চলছে আইএসএল শুরুর সেই সময় থেকেই। টেলিভিশনে প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয় আইএসএল-এর। এমন এক কৃত্রিম উন্মাদনা তৈরি করা হয় যা দেখে টেলিদর্শকের মনে হতেই পারে, ভারতে ফুটবল মানেই আইএসএল। এমনকি, এএফসি কাপের জন্য এশীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাকে পাঠানো ভারতীয় ফুটবল দলের সদস্যদের নাম ও তাঁদের ক্লাবের নাম জানানোর ক্ষেত্রেও সালাম রঞ্জন সিং-কে – ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলছেন যিনি এই আই লিগে – দেখানো হয়েছে কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি-র ফুটবলার হিসাবে। সাদা বাংলায়, ভারতের জাতীয় দলে আই লিগের কোনও ক্লাবের কোনও ফুটবলার নেই, সবাই আইএসএল-এ খেলেন, তুলে ধরার চেষ্টা!কিন্তু, এআইএফএফ, আইএমজি-রিলায়েন্স, এফএসডিএল-এর প্রবল চেষ্টার পরও তাদের এই চাপিয়ে দেওয়া তথ্য মেনে নিতে নারাজ ভারতীয় ফুটবলের দর্শক। এই সময়েই আই লিগ আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, তৈরি হয়েছে নতুন দর্শক, জানাচ্ছে তথ্য (তালিকা ২)। গড়ে প্রতি ম্যাচে আই লিগে চার হাজারের বেশি দর্শক এসেছেন মাঠে, নিজেদের প্রিয় দলের খেলা দেখতে।

তালিকা – ২

লিগম্যাচমোট গোলগড় গোলমোট দর্শকগড় দর্শক
আইএসএল৫৯১৬২২.৭৫৮,৩৩,৯৩০৯,৩০৪
আই লিগ৫৩১৩৯২.৬২৭,০৫,৪৩৩১৩,৩১১

তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া
এই তথ্যগুলোই তুলে ধরতে চান বাজাজ ও তাঁর সঙ্গীরা, কলকাতায় রবিবারের সংবাদিক সম্মেলনে।বাজাজের সাম্প্রতিকতম টুইট তুলে ধরেছে বর্তমান পরিস্থিতি। ‘এখন এফএসডিএল এবং রিলায়েন্সের ডান হাত, পড়ুন চিরাগ তান্না, টেলিফোন করছেন আই লিগের ক্লাব-মালিকদের, হুমকি দিচ্ছেন ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের, না হলে ভাল ভাল প্রস্তাব দিচ্ছেন – আপনারা আমাকে কিনতে বা চুপ করাতে পারবেন না, বিশ্ব জানবেই সত্যিটা ঠিক কী।’ হ্যাশট্যাগ করছেন ‘সেভ আই লিগ ইন্ডিয়ান ফুটবল’। এ এক অন্য যুদ্ধ এখন!

Leave a Reply